ভ্রমণের জন্য সেরা ৬২টি টিপস

বেশিরভাগ মানুষই ভ্রমণের ক্ষেত্রে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সবকিছু নিরূপণ করেনা। এই কারণে ভ্রমণে অনেকেই ভুলচুক করে ফেলেন আর তা স্বাভাবিকও বটে। এই ভুলগুলি হয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেমন বাস মিস করা, যেখানে যাচ্ছেন সেখানকার পরিবেশ, পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা না থাকা ইত্যাদি বহু কারণে। তবেঁ, এই ভুল করতে করতেই ধীরে ধীরে একজন মানুষ হয়ে উঠেন পরিপূর্ণ ট্র্যাভেলার ও মানিয়ে নেন যেকোন পরিবেশ, যেকোন সংস্কৃতির সাথে ঠিক যেমন একটি মাছ তার জন্মের পর মানিয়ে নেয় পানির সাথে। হ্যাঁ, বিষয়টা শুনতে মজার হলেও ব্যাপারটা আসলে এমনই! এখানে আমরা এমন কিছুর দিকনির্দেশনাবলী দিচ্ছি যা আপনার ভ্রমণকে করে তুলবে আরও সহজ, আরামদায়ক ও সুস্থ। তোঁ দেখে নেয়া যাক এমন কিছু টিপস!

১। সবসময় তোয়ালে সাথে রাখুন – ব্যাপারটা অনেক কমন। তারপরেও বাঞ্জনীয় এখানে বলাটা। অনেকখানে বেড়াতে গেলে বা ট্যুরে বের হলে দেখা যায় আমরা অন্য আরেকজনের তোয়ালের উপর নির্ভরশীল থাকি। তবেঁ, পিকনিক, ট্যুর যাই করিনা কেন তোয়ালে সাথে রাখা উচিৎ।

২। ছোট একটি সুটকেস কিনুন – বেড়ানো বা ট্যুরের ক্ষেত্রে ছোট একটি ব্যাকপ্যাক সাথে রাখলে ট্যুর হয় আরামদায়ক ও এতে স্বল্প জায়গায়ও অনেক কিছু এঁটে যায়।

৩। দরকারি পরিধেয় বস্তু সাথে নিন – অনেকেই ট্যুরে গেলে চিন্তা করেন অনেক কাপড়চোপড় নেয়ার জন্য। কিন্তু এটি ভুল ধারণা। এতে আপনার শারীরিক প্রেশারের পাশাপাশি ওজন ভারী করবে আপনার ব্যাকপ্যাকের। প্রয়োজনীয় কাপড়গুলোই তাই সাথে নিন।

৪। কিন্তু আলাদা মোজা নিন – বাইরে বের হলে স্পেশালি হাইকিং এর জন্য যদি ট্যুর করেন তবে সাথে আলাদা এক জোড়া মোজা নিলে অনেক কাজে দিবে কনফার্ম থাকেন।

৫। আলাদা ব্যাংক ও ক্রেডিট কার্ড সাথে নিন – সমস্যা যেকোনখানেই হতে পারে। তাই প্রস্তুত থাকা জরুরী। আপনি বেড়াতে গিয়ে চুরি বা ছিনতাইয়ের শিকার হলেও যেন সমস্যা না হয় সেজন্য সাথে আলাদা ব্যাংক ও ক্রেডিট কার্ড রাখুন অবশ্যই। এতে, নতুন ফান্ডের জন্য বা বিপদে পড়ে গেলে সমস্যা সমাধানে বেশি বেগ পেতে হবেনা।

৬। ব্যাংকের ফি পড়ে পরিশোধ করুন – যদি আপনার কোন ব্যাংকের ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের বিল দিতে হয় ভ্রমণের সময় তবে তখন সেই কার্ড নিয়ে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন এবং নিজে অর্থ খরচ করুন।

৭। জীবনে একবার হলেও একা ট্র্যাভেল করুন – আপনি নিজের সম্পর্কে শিখতে বা নিজের সক্কমতা যাচাইয়ের জন্য সবচেয়ে ভাল উদ্যোগ হচ্ছে সলো ট্র্যাভেলিং। এতে আপনার সমস্যা সমাধান, বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবিলা, নিজের স্কিল বাড়ানো ইত্যাদি গুণগুলি আয়ত্ত হবে। জীবনে একবার হলেও তাই একা ট্র্যাভেল করা জরুরী। এতে নিজের উপর আত্মবিশ্বাস আসে পাশাপাশি নিজেকে অনেকদূর টেনেও নেয়া যায়।

৮। ম্যাপ ব্যবহার করুন – কোথাও হারিয়ে গেলে বা প্রতিকূল অবস্থায় ম্যাপ চেক করুন। হাজার হোক, আপনার সমস্যার সমাধান জরুরী। তাই, অপরিচিত অবস্থায় পড়লে নিজেকে মানুষের সামনে একজন টুরিস্ট হিসেবে তুলে ধরুন, সাহায্য চান আর ম্যাপের সহায়তা নিন দ্রুত পরিচিত স্থান খুঁজে বের করার জন্য।

৯। কিন্তু মাঝেসাঝে নিজেকে নিজের ইচ্ছায় হারিয়ে ফেলুন – হ্যাঁ, এটা করুন। নতুন জায়গা না দেখলে কিভাবে জানবেন সেটা সম্পর্কে? এজন্যই হারিয়ে যান। আপনি হয়ত মনের অজান্তে এমন কিছু আবিষ্কার করবেন যা আপনাকেই বিস্মিত করে দেবে।

১০। লোকাল ট্যুরিজম অফিসে যোগাযোগ রাখুন – তারা এলাকা, সাম্প্রতিক অবস্থা সবকিছু সম্বন্ধে সম্যক ধারণা রাখেন। তাই, কোন নতুন কোথাও বেড়াতে গেলে তাঁদের সাথে যোগাযোগ রাখুন যেকোন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য।

১১। নিজেকে অতি খরুচে হিসেবে উপস্থাপন করতে যাবেন না – চোর সবসময় চোখ খোলা রাখে। নতুন কোথাও গেলে নিজেকে স্থানীয় হিসেবে ভাব দেখান আর অতি খরচের অভ্যাস থাকলে বাদ দিন। এতে আপনার পকেট সেইফ থাকবে।

১২। বের হওয়ার সময় শুধু প্রয়োজনীয় জিনিস সাথে রাখুন – যখন বের হবেন হোটেল থেকে তখন নিজের সাথে প্রয়োজনীয় জিনিষপত্রগুলোই শুধু সাথে রাখুন।

১৩। সর্বদা সাথে তালা রাখুন – ছোট হলেও একটা তালা রাখুন সাথে। এতে আপনার ব্যাকপ্যাক সেইফ থাকবে। চাবি একাধিক রাখুন একটি হারিয়ে গেলে যেন আরেকটি ব্যবহার করা যায়।

১৪। নিজের পাসপোর্ট বা অন্যান্য গুরুত্তপুরন জিনিষের একাধিক কপি রাখুন – নিজের মেইলেও একটা কপি রাখুন এসব জিনিষের। সবসময় অরিজিনাল জিনিষ নিয়ে চলাচল করা যায়না বা সেইফও না। আর এগুলোর একাধিক কপি রাখুন সাথে।

১৫। হোটেল স্টাফের কাছে তথ্য জিজ্ঞাসা করুন – হোটেলের স্টাফরা এলাকার সবকিছুই চেনেন কমবেশি। তারা আপনাকে কমদামী খাবার, আকর্ষণীয় স্থান সম্পর্কে ধারণা দিতে পারবেন ভালভাবে। সো, তাঁদের কাছে জিজ্ঞাসা করুন সবকিছু।

১৬। কিছু কমন ভাষা শিখুন স্থানীয় ভাষায় – গুডবাই, সরি, ইয়েস, নো ইত্যাদি কিছু ভাষা শিখে নিলে পারেন স্থানীয় ভাষায়। এতে স্থানীয়রা আপনাকে মনে রাখবে।

১৭। ইতিহাস ঘাঁটুন – কোথাও ঘুরতে যাওয়ার আগে সেই স্থানটি সম্পর্কে ঘাঁটাঘাঁটি করুন। এতে অনেক বিষয় যেমন জানবেন তেমনি ওইখানে গেলে বুঝতেও সহজ হবে।

১৮। পরিচিত স্থানে যেতে পারেন – পরিচিত কোন ব্র্যান্ডের দোকান বা শপে ঢুঁ মারতে পারেন এতে সেখানে তারা কি কি জিনিষ রাখে তা সম্পর্কে জানতে পারবেন।

১৯। সরাসরি প্লেনে টুরিস্ট স্পটে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন – টুরিস্ট স্পটে যাওয়ার সময় প্লেনে সরাসরি পৌঁছানো থেকে কাছাকাছি কোথায় গিয়ে বাস বা ট্রেনে পৌঁছানো ভাল। এতে চারিপাশের স্থান সম্পর্কে ঘনিষ্ঠভাবে জানবেন।

২০। বিজনেসম্যানদের সাথে লাইনে দাঁড়ান! – কথাটা হাস্যকর হলেও সত্যি। তারা সর্বদা ব্যস্ত থাকেন। তাঁদের পিছনে গেলে সময় বাঁচানোর ব্যাপারে শিখতে পারবেন।

২১। পারিবারিক লাইন এড়িয়ে যান – পারিবারিক লাইনে সাধারণত অনেক ব্যাকপ্যাক, জিনিসপত্র ও মানুষজনও থাকে। তাই এই লাইন এড়ানোই বুদ্ধিমানের কাজ। এতে সময় বাঁচবে ও ঝামেলা কম হবে।

২২। হোটেল ঠিক করার সময় কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের কাছ থেকে আরও ভাল কিছু চান – অনেক সময় হোটেল ফুল বুকিং না থাকলে হোটেলের কর্মকর্তা, কর্মচারীরা ভাল ব্যবস্থা দিতে কারপন্য বোধ করেননা একই দামে। একটু দামাদামি করে নিতে পারেন আর তাঁদের সাথে একদম ঠাণ্ডা থাকুন।

২৩। ওয়াই-ফাই – ওয়াই-ফাই এখন অনেকটা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিষের মতই। এর জন্যে লাইব্রেরী, ক্যাফেতে যেতে পারেন।

২৪। লাঞ্চটাইমে ঐতিহাসিক স্থানে ভিজিট করুন- একটু ব্যাতিক্রমি হন। লাঞ্চের পড়ে দর্শনীয় স্থানগুলিতে ভিড় বেশি থাকে। তাই একটু আগে গেলে ভালমত দেখতেও পারবেন, ভিড়ের থেকেও মুক্তি পাবেন।

২৫। টুরিস্ট এরিয়াতে খাবার খাবেন না – টুরিস্ট স্পটের আশেপাশে ভুলেও খাবার খাবেন না। চড়া দাম তোঁ দিতে হবেই সেই সাথে পচা খাবার। আশেপাশের খাবারের দোকান বা রেস্তোরাঁর জন্য সামাজিক মাধ্যম যেমন ম্যাপ্স, ফোরস্কয়ার এগুলির আশ্রয় নিন।

২৬। স্থানীয়রা সবসময় খাবার কেনেনা এবং আপনিও তা করুন – রাতে বের হলে স্থানীয়দের খাবারের স্টাইল বা ডায়েট সম্পর্কে জানতে পারবেন। নিজের খাবার নিজে রান্না করার ট্রাই করুন। অর্থ বাঁচবে প্লাস নতুন কিছু শিখবেন।

২৭। দুপুরের খাবার দামি কোন রেস্তোরাঁয় সেরে নিন – বেশিরভাগ দামি রেস্তোরাঁগুলো যে খাবারগুলো রাতে দেয় দুপুরেও একই খাবার দেয়। আর তাই দুপুরে কিছুটা কমের মধ্যেই সেরে ফেলুন।

২৮। একটি ফ্ল্যাশলাইট রাখুন সাথে – ভ্রমণে এটি বেশ কাজে দেয়। অন্ধকারে হঠাৎ হারিয়ে গেলে এটির গুরুত্ত বুঝতে পারবেন।

২৯। ফাস্ট এইড কিট সাথে রাখুন – ভ্রমণে গেলে স্পেশালি পাহাড়ি এলাকায় গেলে ফাস্ট এইড কিট সঙ্গে নিতে ভুলবেন না।

৩০। ২-৩ মাস আগেই ফ্লাইট বুকিং দিন – ভালো দামের জন্য ২-৩ মাস আগেই ফ্লাইট বুকিং দিয়ে ফেলুন। আগে বুকিং দিয়ে রাখলে বেশ ভালো ছাড় এবং সুবিধা পাবেন

বাকি ৩২ টি টিপস